
মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারি দায়িত্ব পালনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন উপপরিচালক জাকির হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি কার্যালয়ে আগত বিভিন্ন সেবা প্রত্যাশী এবং নিজের অধীনস্থ সহকর্মীদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী সেবা প্রত্যাশী জানান, মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারী সেবা,ভাতা, সহায়তা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে উপপরিচালক জাকির হোসেন জামায়াত ইসলাম এর রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেন এবং দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রে তা কেবল মতামত নয়, বরং চাপ হিসেবে অনুভূত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবা প্রত্যাশী বলেন,
“সরকারী সেবা পাওয়ার জন্য আমরা সেখানে যাই। কিন্তু ভোট কাকে দেবো—এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও ইঙ্গিত দেওয়া আমাদের জন্য ভীতিকর।”
শুধু সেবা প্রত্যাশী নয়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, অফিস চলাকালীন সময়েই রাজনৈতিক আলোচনা করা হয় এবং মতের অমিল থাকলে তা ভালোভাবে নেওয়া হয় না।
কার্যালয়ের একজন কর্মচারী বলেন,
“সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা থাকার কথা। কিন্তু এখানে ভিন্ন মত পোষণ করলেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
জানা যায়,উপ পরিচালক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত ইসলামের মাগুরা জেলার আমির এম বি বাকের এর সাথে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মিটিং করে আসছেন।কিছুদিন আগে মাগুরায় জামায়াত ইসলামের আমির হামজার প্রোগ্রামে তিনি স্টেজে বসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।মাগুরা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবু মুসার পরামর্শে উপপরিচালক জাকির হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্কিত এই কাজটি করে আসছেন। আবু মুসার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়।ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে শেখ হেলাল এর কাজিন হিসেবে পরিচয় দিতেন।ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে তৎকালীন মাগুরা ১ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান শিখর এর সুপারিশ ও হস্তক্ষেপে মাগুরাতে যোগদান করেন এই কর্মকর্তা। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তীতে ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে জামায়াতের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এখন।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক দাপ্তরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটে প্রভাবিত করার চেষ্টা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ও সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার সরাসরি ও ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।সচেতন নাগরিক সমাজ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হবে।
